এই হচ্ছে জিনিয়াসের লেখা। ২০২৩ বইমেলায়, একটাই ম্যাগাজিন কিনি, মধ্যবর্তী। হাতে রোল করে নিয়ে আসি। রুমে এসেই পড়তে শুরু। ছোট নভেলা। পড়তে ঘন্টা দেড়েক। কিন্তু তারপরও আর ঘুমোতে পারিনি। অর্জুন বলেছেন, এটা তাঁর একমাত্র আত্মজীবনী। তা বটে। একজন শিল্পীর এমন আত্মজীবনী, শিল্পের সঙ্গে কথোপকথন আর কেই বা লিখেছে। অর্জুন নিজেও আর এমন লিখবে কিনা কে জানে। শুরুটা এমন যে, এক উচ্চপদস্থ অফিসার নিঃসঙ্গ অবসর জীবন কাটাতে কাটাতে একেবারে শেষ বয়েসে এসে ওঠেন এক সেক্সবারে।
আধুনিক যৌন ফ্ল্যাটে। কিন্তু আশি বছরের কৃষ্ণমূর্তি সেখানে যান, থাকেন, আর লেখেন জীবনের একমাত্র উপন্যাস। ইতিমধ্যে সেখানকার মালিক রানির অনুরোধে লিখতে হয় পর্নোগ্রাফির স্ক্রিপ্ট। যার শুটিং চলে এখানেই। শেষমেশ পানু গল্প লিখতে লিখতে এবং তার পাঠকের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে এক রহস্যময়ী নারীর প্রশ্নের উত্তরে বলে ফেলেন নিজের প্রিয় গল্পের কাহিনী। আর তারপর মারা যান, যেহেতু ওই গল্পই ছিল তার বেঁচে থাকবার চাবিকাঠি। ওই রাত্রে তাকে নিজের গল্প শোনাতে আসে সেই রহস্যময়ী মরিয়ম। লেখা হয় না নিজের উপন্যাস, শেষ করার দায়িত্ব দিয়ে যান রানিকে। আর তারপর? রানির সেক্সবারে আসেন এক শিল্পী, মাতাল, আর খোঁড়া। উপন্যাসের চিন্তাস্রোতের খেলা শুরু হয়। শুরু হয় শিল্পের সার্থকতা, শিল্পীর ভূমিকা আর অমরত্বের চিরন্তন প্রশ্নের ধাঁধা। আজকালকার ঘটনার ঘনঘটার ভেতর বিশুদ্ধ চিন্তা চেতনার উপন্যাস খুব কমে গেছে। চোখে পড়ে না। অর্জুন লিখেছেন এবং একেবারে ওভার বাউন্ডারি। খুব কম লেখাই বারবার পড়তে ইচ্ছে হয়, ফিরে ফিরে টানে, সমান আকর্ষণ লাগে, মুগ্ধ করে, কিছু নতুন লাগে, যেমন এই লেখাটা। ফের পড়তে পড়তে মনে হল, দু চার কথা বলা যাক।
Leave a Reply