অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

I write to understand what remains after everything leaves

আমি এখনও একটি লাইনও লিখতে পারিনি

আমি প্রায় পঁচিশ বছর ধরে লিখছি। এই পঁচিশ বছরে আমার নামের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে কিছু বই, কিছু উপন্যাস, কিছু গল্প, কিছু অসমাপ্ত খাতা। ‘বঙ্কিমচন্দ্র’ লিখেছি। ‘মরণ-অন্তরালে’, ‘ব্রেনফিভার’, ‘সেক্স অ্যান্ড ফিলোসফি’, ‘পৃথা কখন আসবে’, ‘এখানে আমি কী করছি’, ‘ভারতীয় নোটবুক’, ‘দুপুরে সন্ধ্যার মেঘ’, আটটি উপন্যাস লিখেছি। অথচ লিখতে চেয়েছিলাম একটা। এ তো পাপ। ‘এত লেখা অসভ্যতা।’

কথাটা আমার নয়। রবীন্দ্রনাথের। মৃত্যুর এক বছর আগে রানি চন্দকে বলেছিলেন।

খাঁচার ভেতর খাঁচা (দ্য ফেন্স উইদিন দ্য ফেন্স)

মূল নাটক: মহসিন মখমলবাফ

দুনিয়া মিখাইল-এর কবিতা

দুনিয়া মিখাইলের জন্ম ১৯৬৫-তে, বাগদাদে। ওঁর কবিতাকে আপাত দৃষ্টিতে যতটা নিষ্পাপ বলে মনে হয় ততোটা নয়। বাগদাদে তিনি ছিলেন ততোদিন, যতদিন ওঁর কবিতাকে প্রশাসন নিষ্পাপ বলে ভেবেছে। মিখাইল যুদ্ধ নিয়ে কবিতা লেখেন। যে কবিতাগুলো বীররসাত্মক নয়। কবিতাগুলো পাঠকের কানে কোনও সুর বাজায় না। যুদ্ধ নিয়ে মিখাইল কবিতাগুলো লেখেন একজন নারী হিসেবে, একজন মা হিসেবে, একজন বন্ধুর মতো।

হারিয়ে যাওয়া স্বদেশ — মুজামিল জলিল  

কাশ্মীরি সাংবাদিক মুজামিল জলিল, যিনি গত শতাব্দির নয়ের দশকে বেড়ে উঠেছেন কাশ্মীর উপত্যকার তৃণভূমি আর পাহাড়গুলিতে। স্বাধীনতার প্রত্যয় নিয়ে মরে যেতে দেখেছেন তাঁর বন্ধু, সহপাঠী আর তাঁদের পরিজনদের। যাঁর দেশ বহুকাল হল এক যুদ্ধক্ষেত্র। 

‘মাই লস্ট কান্ট্রি’ শিরোনামে জলিল এই গদ্যটি লিখেছিলেন ‘অবজার্ভার’ পত্রিকায় ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০০২ সালে। ওই একই বছর ২৬ মে, ২০০২ তারিখে কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকাতেও ‘আই হ্যাভ সিন মাই কান্ট্রি ডাই’ এই শিরোনামে জলিলের অনুরূপ একটি গদ্য প্রকাশিত হয়েছিল। জলিলের এই লেখাটি আমি অনুবাদ করেছিলাম ২০১৬ সালে, সেপ্টেম্বর মাসে। সেই সময়ে বেশ কিছু পত্রিকায় অনুবাদটি প্রকাশিত হয়। এত বছর পরেও এই গদ্যের একটি শব্দেরও প্রয়োজনীয়তা ফুরোয়নি। বরং শহিদ আর নিখোঁজের সংখ্যা সেদিনের চেয়ে বেড়ে গেছে বহুগুণ।

শিশুহীন ভোরের পৃথিবী–অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

দক্ষিণ কোরিয়ার কবি কিম হাইসুন-এর একটা কবিতা আছে…

‘…নিকষ কালো রাতে, রাতের পাখিও যখন ঘুমে কাদা
বাচ্চারা সব বেরিয়ে আসছে, সুটকেস টানতে টানতে।
সবাই ঘুমন্ত, শুধু বাচ্চারা বাদে।
পশ্চিমের জেটিঘাট থেকে চুপিচুপি একটা ফেরি ছাড়ল
সারা বছরের নামে, সেই একই বিদায়ী শিশুর দল,
এক ফেরি, একই মেঘ, এক আকাশ…’

সাক্ষাৎকার—অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

১) লেখালেখির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় সবাই কবিতা দিয়ে শুরু করে। আপনার শুরুও কি কবিতা দিয়ে? বা আপনি কিভাবে গল্পে এলেন? 

যে জিনিস অনতিব্যক্ত অবস্থা থেকে ক্রমশঃ ব্যক্ত হয়েছে, তার আরম্ভসীমা নির্দেশ করা কঠিন। গল্পে কীভাবে এলাম, এটা বলার আগে বলতে হয়, গল্পেই তো ছিলাম। একেকটা কবিতা, অথবা ছবির মধ্যেও কি গল্প ঢুকে থাকে না? আড়ালে? গল্প যে-কোনও জায়গা থেকে শুরু হয়ে যেতে পারে। যে-কোনও অবস্থায়। যেমন কবিতাও যে-কোনও জায়গা থেকে শুরু হয়ে যায়। তুমি কি বিশ্বাস করো কপালকুণ্ডলা অথবা আরণ্যকের গদ্যে কবিতা এবং কবিত্ব নেই? কীভাবে একটা গল্পের ভেতরে আমরা ঢুকে পড়ি, এবং একসময় সেটা লেখা শুরু হয়, এটা অনতিব্যক্ত অবস্থা থেকে ক্রমশঃ ব্যক্ত হওয়ার একটা প্রক্রিয়া।

‘সেক্স অ্যান্ড ফিলোসফি’ উপন্যাস নিয়ে পাঠ-প্রতিক্রিয়াগুলি — সায়ন বর্মন

এই হচ্ছে জিনিয়াসের লেখা। ২০২৩ বইমেলায়, একটাই ম্যাগাজিন কিনি, মধ্যবর্তী। হাতে রোল করে নিয়ে আসি। রুমে এসেই পড়তে শুরু। ছোট নভেলা। পড়তে ঘন্টা দেড়েক। কিন্তু তারপরও আর ঘুমোতে পারিনি। অর্জুন বলেছেন, এটা তাঁর একমাত্র আত্মজীবনী। তা বটে। একজন শিল্পীর এমন আত্মজীবনী, শিল্পের সঙ্গে কথোপকথন আর কেই বা লিখেছে। অর্জুন নিজেও আর এমন লিখবে কিনা কে জানে। শুরুটা এমন যে, এক উচ্চপদস্থ অফিসার নিঃসঙ্গ অবসর জীবন কাটাতে কাটাতে একেবারে শেষ বয়েসে এসে ওঠেন এক সেক্সবারে।

Page 1 of 6

© 2026 Arjun Bandyopadhyay. All rights reserved. | Website developed by Sudip Palodhi