মাথার ভেতরে আরও একটা মাথা, মনের গভীরে আরও একটা মন। গল্প বুনতে বুনতে একটা বিরাট জালের মতো করে তাকে পাঠকের শরীরে ছড়িয়ে দেওয়ার এক বিচিত্র কৌশল অর্জুন জানে। যে-মায়াবিস্তার শুরু হয়েছিল প্রথম অংশে তাই পরের অংশে এসে চরম রতিসুখ দিয়েছে। অনন্তের দিকে উত্থান আর চরম সময়ের মন্থন ও ঝাঁকুনি দেওয়া স্খলন, এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অসম্ভব নিখুঁত আর শক্তিশালী লেখনীতে ফুটিয়েছে ও। সাহসের প্রশংসা করে এই লেখাকে আলাদা করে কোনও শিলমোহর আমার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ওর আগের লেখা বা ওর জীবনের সামান্য জানলেই জানা যায় ওর সাহস কতখানি। নিজের জন্য একান্ত নিজেরই জন্য গদ্যভাষার নির্মাণ করেছে অর্জুন এবং এই বইটিতে ইচ্ছেমতো খেলা করেছে তার সাথে।
আমি বিশেষ করে দ্বিতীয় অংশ ‘এখানে আমি কী করছি’ এটির প্রেমে পড়েছি। এইখানে এসে বাস্তবে আর অবাস্তবে গুলিয়ে গিয়েছে। এখানে মায়ার অতলে আমি পেঁচিয়ে ডুবে গেছি। লেখা যত এগিয়েছে আমিও ততই যেন ওর মাথার ভিতরে, ওর নির্মাণের ভিতরে আটকে পড়েছি। পালানোর রাস্তা চিনতে পারিনি যতক্ষণ না একটা আকস্মিক ধাক্কা সমস্ত আলো টুপ করে নিভিয়ে দিয়েছে। এইখানে জিতে গেছে অর্জুনের মায়াপাশ। প্রথম অংশে যে সামান্য খামতি আমার মনে হয়েছিল সেটুকু পরের অংশে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য অনেকটা ভালোবাসা রইল।
Leave a Reply