অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ব্রেনফিভার উপন্যাসটা এই শেষ করে উঠলাম। যে কোনো উপন্যাসের লেখক অভিপ্রেত সব অর্থই হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছি – এমন কথা কখনো জোর দিয়ে বলতে পারিনি আমি। সাহিত্যের তো নানা স্তরায়ণ থাকে! সেই সঙ্গে সাহিত্যের নানা ব্যাখ্যাও থাকে। ব্যাখ্যা করা অবশ্য অধ্যাপকের কাজ। আমি পাঠক। তাই আমি আমার জীবন অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহিত্যকে অনুধাবন করার চেষ্টা করি। রফিকুল চরিত্রটিকেও লেখক সেই ভাবেই উপস্থাপন করেছেন। অন্তত তিনটি চরিত্রের কাছে সে তিনরকম। তাছাড়াও আছে রফিকুলের পিসিমা, আছে মরিয়ম।

কিন্তু যার কাছে সে যেমনই হোক না কেন তার জীবনে একটি বিষয় চিরস্থায়ী – তার অসুখ। মীরা রফির পাশে থাকতে থাকতে সহ-রুগি হয়ে উঠেছে। অসুখের আতঙ্ক মীরাকে তাড়া করে বেরিয়েছে। শাহানা একজন নারী, প্রেমিকার দৃষ্টিতে রফিকে দেখেছে। আর কৌশিক, সাংবাদিক, লেখক, রুগি সব ছাপিয়ে রফিকে বন্ধু ভেবেছে। রফি আশ্রয় দিয়েছে। আশ্রয় চেয়েছেও। আমার মনে হয়েছে রফিকুল রক্ত মাংসে গড়া একজন মানুষ! সে কোনো আইডিয়া নয়। অসুখগুলো তার শরীর ছাপিয়ে মনকে গ্রাস করেছে একসময়। হয়তো তার মৃত্যু হলো! হয়তো তাকে স্বপ্ন পেলো। কিন্তু রফিকুল আর যাই হোক নেগেটিভ মাইন্ডেড মানুষ বলে আমার মনে হয়নি। জীবন সংরাগে মুখর একটি চরিত্র। যখন আর কেউ তার পাশে থাকল না, থাকল তার স্বপ্ন অথবা মৃত্যু! অসম্ভব স্মার্ট একটি উপস্থাপনা। পাঠককে বোঝানোর দায়টা কিছুতেই নিজের কাঁধে নিতে নারাজ এই লেখক। আবার ঘাড় ধরে পড়িয়ে নেওয়ার জন্য সুললিত গদ্য রচনাও তার নাপসন্দ। এই অনিশ্চিত সময়ের আখ্যান হিসেবে এই উপন্যাসটি যথার্থ।