দেখে মনে হবে পরিত্যক্ত দূর্গ, কিন্তু ভেতরে ঢুকে পড়লেই যেন প্যারিসের কোন প্যালেস, আদতে রকমারি সুবিধা সংবলিত একটা যৌনফ্ল্যাটে তিনজন পুরুষ আর তিনজন নারীর কাহিনি এই উপন্যাস– ‘সেক্স অ্যান্ড ফিলোসফি’।
অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উপন্যাসের ভাষাবিস্তারে এমন সব অন্তর্ঘাতী চিন্তারাশি আছে, যার সামনে পাঠককে কেবল বিস্মিত না, তাকে টানটান সতর্কও থাকতে হয়।
নন্দনের নামে ভাষার কোনো শুচিবায়ুগ্রস্ততা নেই, বরং চাঁছাছোলা ঠিকঠাক ধরতাইটা আছে।


রুচিবাগীশ পাঠকের চেতনায়, মানে শুরুতেই, উপন্যাসের নামকরণেই তো গজাল মেরে দিয়েছেন অর্জুন। আমরা অনেকে অবশ্য এমন সাহস দেখাতে পারি না, আমাদের থোকা থোকা কোমল সব কবিতাটাইপ নামধাম লাগে। আরও অদ্ভুত যে, উপন্যাসের প্রবেশমুখে তিনি জানাচ্ছেন, যে এই একই নামে ইরানিয়ান ফিল্ম ডিরেক্টর মহসিন মখমলবাফের একটা সিনেমাও আছে।
‘সেক্স অ্যান্ড ফিলোসফি’ পড়তে পড়তে কান টানলে মাথা আসার মতো আমার মনে এলো, প্রিয় অরুণেশ ঘোষের ‘নগ্ন পরিবার’ ‘সন্তদের রাত’- উপন্যাসসহ অনেকগুলো গল্পের কথা। ঠিক যেমন, অরুণেশ ঘোষ পড়তে পড়তে মনে আসে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা।