অর্জুন বন্দোপাধ্যায়ের ‘সেক্স এন্ড ফিলোসফি’ বইটার কিছুটা পড়লাম। বেশ ডেয়ারিং বই। সাথে সাহিত্য গুণে ভরা৷ প্রথম অধ্যায়ে টানা গল্প দেখে শুরুতেই মনটা বিগড়ে গেছিল। পরের চ্যাপ্টারগুলো এমন নয়, তাই বাঁচোয়া। গল্পদাদুর আসর আমার একদম না-পসন্দ। তারপর শুরু করলাম বইয়ের যে কোনো পাতা খুলে পড়া, পড়ার এই টেকনিকটা শিখেছিলাম কৌশিক সরকারের কাছে, বইটা বেশ ভালোই লাগলো।
নিজেকে বিশাল পাঠক আমি ভাবি না। এক সিটিং-এ দু তিন পেজের বেশি পড়ার ক্ষমতা আমার নেই। তবু তুলনায় এই বইটার অনেকগুলো পাতাই পড়লাম একসাথে। উল্টে পাল্টে৷ মনে হলো আমার মতো পাগলদেরকেই, যারা ক্রিয়েটিভলি পাগল, পাঠক হিসেবে চাইছে এই বই।
উপন্যাসে বেশ কয়েকটা ডেঞ্জারাস জায়গা আছে, যেমন একজায়গায় বলছে…. “আমাদের জীবনে বেশিরভাগ সমস্যার কারণ হল সেইসব মানুষেরা যাদের জীবনে ভালো করে চোদাচুদি জিনিসটা নেই। হু হ্যাভ নট হ্যাড আ গুড ফাক, সেইরকম মানুষেরাই আমাদের অধিকাংশ সমস্যার কারণ। এরকম মানুষেরা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনকে নাজেহাল করে রেখেছে। রাজনীতির সব নেতাদের দ্যাখো, সেনাবাহিনীর অফিসারদের দ্যাখো, মুখ দেখেই বোঝা যায় এরা চোদে না, কেউ এদেরও চোদে না। শোষণ এবং হিংসার অন্যতম মূল কিন্তু এটাই।”
ভাষার ব্যবহারের ব্যাপারে কোন কিছুর তোয়াক্কা করেননি অর্জুন। লুতুপুতু শিল্প সাহিত্যের আলবাল নরম কথাবার্তা পড়ে, শুনে যাদের দিমাগ খারাপ, তাদের কিন্তু যথেষ্ট বেগ পেতে হবে এই বই হাতে নিলে। ‘সেক্স অ্যান্ড ফিলোসফি’ পরে আরো কয়েকবার পড়বো নিশ্চয়। ফিরে ফিরে পড়ার ইচ্ছে জাগিয়ে দেয় এই উপন্যাস। বইটাকে এখন আপাতত বইয়ের তাকে একটু ভেতরের দিকে চেপে ঢুকিয়ে দিলাম।
Leave a Reply