অভিনব। স্বচ্ছ রাজনৈতিক দৃষ্টি। ও ইতিহাস বোধ। জীবন্ত চরিত্র নির্মাণ। বিরাট ক্যানভাস নির্বাচনের সাহস প্রশংসনীয়। ন্যারেটিভ শৈলীতে সচেতনভাবে দ্বান্দ্বিকতার প্রয়োগে authorial voice-এর সরলতা, একমাত্রিক দৃষ্টিকোণ, আরোপন ও অগভীরতাকে সফলভাবে অতিক্রম করেছেন। সবশেষে বাংলা উপন্যাসে বর্তমানে রাজনৈতিক সমাজ বিশ্লেষণ প্রায় অনুপস্থিত। আপনার লেখায় তা লক্ষ্যণীয়ভাবে উপস্থিত। 

বঙ্কিমচন্দ্র : রিডার্স রিভিউ : স্বাস্ত্যনীক নিকষানন

‘বঙ্কিমচন্দ্র’ কি উপন্যাস? নাকি তথ্য এবং যাদুবাস্তবে গাঁথা আখ্যান? কোনও বিশেষ সময়কে ধরা পিরিয়ড নভেল নয়, একটা প্রবাহমান আখ্যান, যেখানে বিশেষ বিশেষ চরিত্ররা পাঠকের খুব পরিচিত এক একটি নাম (যদি ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত জীবন পরিচিত নাও হয়, নাম হিসেবে তো বটেই), কাজের সঙ্গেও কিছুটা বা অনেকটা পরিচিত হতে পারেন পাঠক। এই চরিত্রদের, এদের সত্ত্বার আশ্রয় নিয়েই লেখক অনেক কিছু জানাতে চেয়েছেন পাঠককে। গল্পর পিঠে গল্প, বা ইতিহাস বর্ণনা নয়…

বঙ্কিমচন্দ্র : রিডার্স রিভিউ : জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

বঙ্কিমচন্দ্র : পাঠ প্রতিক্রিয়া–দেবাঞ্জন মিত্র

একজন পাঠক দুটি মূল কারণে পড়েন। প্রথমতঃ, নিজের আনন্দের জন্য, দ্বিতীয়তঃ, লেখার মোহে। কিছু কিছু পাঠ্য অবশ্য এ দুই স্রোতের সম্পূর্ণ বিপরীত গতিতে তার মেধাকে নিয়ে যায় ও তার মননশীলতার পরীক্ষা নেয়। তা পাঠককে চিন্তা করার খোরাক যোগায়। অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বঙ্কিমচন্দ্র’ সেই জাতের। 

রিডার্স রিভিউ : অর্ণব সাহা

”…দুপুরে নটে শাকের ঝোল দিয়ে ভাত সাটিয়ে নবারুণ যখন একটা মোড়া নিয়ে বারান্দাটায় এসে বসলেন, ঋত্বিক যেন এতক্ষণ এরই অপেক্ষায় ছিলেন। অনেক ডাকাডাকি করেও ভাতের থালার সামনে তাঁকে নেওয়া যায়নি। প্রীতিলতা বেরিয়ে গেছে সেই সকালে। কথা ছিল তিনজনে একসঙ্গে খাবে দুপুরে, সে আর হল না। নবারুণ ওঁর নতুন উপন্যাস নিয়ে কথা বলছিলেন ঋত্বিকের সাথে। কথা এগোতে এগোতে উপন্যাস ছাড়িয়ে লেখকের রাজনীতি বোধ, তার প্রস্তুতি, নানান দিকে চলে যায়। বলেন, “লেখক তো মিউজিয়মের মূর্তির মতো শুধু শস্ত্র আয়ুধে সজ্জিত থাকবেন না, তাঁর রণকৌশল এবং কাউন্টার পলিটিক্স স্পষ্ট থাকবে…তাঁর শব্দ ও বাক্যগুলি–যা নির্মাণ করেছে একটি গদ্য, তা যদি ফিলোজফিক্যালি স্পিড ও ডেস্টিনি প্রাপ্ত না হয়, শব্দগুলির চেতনাবিহীন অর্থ নিয়েই পড়ে থাকতে হয় তাঁকে…” 

পাঠ প্রতিক্রিয়া : বঙ্কিমচন্দ্র : পথিক দত্ত

‘ক্যানেস্তারা’ পত্রিকার  (প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত) বর্ষা ১৪২৫ সংখ্যায় পথিক দত্ত-র কলমে “বঙ্কিমচন্দ্র’-এর পাঠ প্রতিক্রিয়া 

পাঠ : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস


‘বঙ্কিমচন্দ্র’-এর ২য় পর্বের কিছু অংশ। পাঠ করেছেন জ্যোতির্ময় বিশ্বাস। 

বঙ্কিমচন্দ্র : রিডার্স রিভিউ : দেবজ্যোতি রায়

বাংলা গদ্য সাহিত্য এই সময়ে দাঁড়িয়ে কীভাবে লেখা হচ্ছে, সে বিষয়ে যাঁরা জানতে আগ্রহী, যদি ইতিমধ্যে পড়ে না থাকেন তো তাঁদেরকে বলবো, অর্জুনের (বন্দ্যোপাধ্যায়) ‘বঙ্কিমচন্দ্র’ উপন্যাসটি তাঁরা একবার পড়ে দেখুন। আমি স্তম্ভিত। আরও পড়ুন

‘বঙ্কিমচন্দ্র’ : রিডার্স রিভিউ : অভিষেক সরকার

অর্জুন- বঙ্কিমচন্দ্র এই পড়ে উঠলাম। বিস্তারে লিখবো আজকাল করে।

আপাতত বলি- এ আপনার বাংলা সাহিত্য (সাহিত্যের বড় অর্থ ধরেই)-কে দেওয়া এবং দিয়ে চলা আভূমিনত কুর্ণিশের জার্নাল। এবং তাই বিশ্ব সাহিত্যের প্রতিও এক সবিশেষ স্যালুট। আরও পড়ুন

ব্লার্ব ও অন্যান্য

বঙ্কিমচন্দ্র’ উপন্যাসে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা এবং বিভিন্ন কালের মানুষ একজায়গায় কোনোভাবে এসে পড়েছেন। সময়ের ভেতর থাকা এক গুপ্ত দরজা, যা দিয়ে এক কাল থেকে আরেক কালে আসা-যাওয়া হয়, সেটাই মূল চরিত্র এই লেখার। ইতিহাসের নানা মোড় এবং অভিঘাত জুড়ে জুড়ে এক প্রাতর্কিক পরিসর। হিস্টোরিকাল ফ্যান্টাসি। অভিসন্ধিমূলক এবং রোমান্টিক্যালি রাজনৈতিক। এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দলিল। এই উপন্যাস, এক স্টেটমেন্ট, পলেমিক এবং অবশ্যই ল্যান্ডমার্ক। 

এই ‘উপন্যাস’ আমার ভালো লাগেনি অর্জুন। অর্থাৎ কোন সাহিত্যকে ভালো লাগবার যে যে চেনা ছকের উপাদান নিয়ে আমাদের ভালো লাগবার মনন গড়ে ওঠে তা এখানে অনুপস্থিত থাকবার দরুনও হতে পারে। অথবা যে ন্যারেটিভের এইমাত্র জন্ম হল, তার ক্রম বিকাশে একদিন অভ্যস্থ হতে পারে পাঠক। নগন্য পাঠক হিসেবে দু একটি কথা বলার আছে অবশ্য। সময়ের চিরায়ত কনসেপ্ট আপনি ভেঙেছেন। সময়ের অনেকগুলি স্তর কখনো মিশে এক হয়ে যাচ্ছে, কখনো ভেঙে টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। আরও পড়ুন

‘ বঙ্কিমচন্দ্র’ : রিডার্স রিভিউ : মৃণাল শতপথী